মরিচ গাছের রোগ ও পোকামাকড় (A to Z)

মরিচের-রোগও-পোকামাকড়

🌶️ মরিচ গাছের রোগ ও পোকামাকড় (A to Z)

মরিচ বাংলাদেশের একটি জনপ্রিয় সবজি ফসল। তবে চাষের সময় বিভিন্ন ধরনের পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণে ফলন কমে যেতে পারে। সঠিক সময়ে রোগ ও পোকা শনাক্ত করে ব্যবস্থা নিতে পারলে সহজেই মরিচ গাছকে সুস্থ রাখা সম্ভব।

নিচে মরিচ গাছের প্রধান পোকামাকড় ও রোগ এবং সেগুলোর প্রতিকার দেওয়া হলো।


🐛 মরিচ গাছের প্রধান পোকামাকড়

ফল ছিদ্রকারী পোকা

ফল ছিদ্রকারী পোকা মরিচের ফলের ভেতরে ঢুকে ফল নষ্ট করে ফেলে এবং ফলন কমিয়ে দেয়।

লক্ষণ

  • মরিচের ফলে ছোট ছিদ্র দেখা যায়

  • ফল পচে যেতে পারে

  • ফলের ভিতরে পোকা দেখা যায়

প্রতিকার

কীটনাশক গ্রুপ:
থায়ামেথক্সাম + ক্লোরানট্রানিলিপ্রল গ্রুপ / সাইপারমেথ্রিন গ্রুপ

ব্যবহারযোগ্য কীটনাশক:

  • ভলিউম ফ্লেক্সি

  • ওস্তাদ

  • ম্যাজিক

১০ লিটার পানিতে নির্দেশিত মাত্রা অনুযায়ী মিশিয়ে ১০–১২ দিন পরপর স্প্রে করতে হবে।


জাব পোকা

জাব পোকা পাতার নিচে বসে গাছের রস শোষণ করে এবং গাছ দুর্বল করে দেয়।

লক্ষণ

  • পাতায় হলদে ভাব দেখা যায়

  • পাতা কুঁকড়ে যেতে পারে

  • পাতায় আঠালো পদার্থ দেখা যায়

প্রতিকার

কীটনাশক গ্রুপ:
ইমিডাক্লোরোপ্রিড গ্রুপ

ব্যবহারযোগ্য কীটনাশক:

  • এডমায়ার

  • টিডো

  • ইমিটাফ

১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ১০ দিন পরপর ২–৩ বার স্প্রে করতে হবে।


সাদা মাছি

সাদা মাছি গাছের রস শোষণ করার পাশাপাশি ভাইরাস রোগ ছড়ায়।

লক্ষণ

  • পাতায় হলদে দাগ

  • পাতা কুঁকড়ে যাওয়া

  • গাছের বৃদ্ধি কমে যাওয়া

প্রতিকার

কীটনাশক গ্রুপ:
ইমিডাক্লোরোপ্রিড / এসিটামিপ্রিড গ্রুপ

ব্যবহারযোগ্য কীটনাশক:

  • এডমায়ার

  • টিডো

  • প্লেনাম

১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।


ক্ষুদে মাকড়

ক্ষুদে মাকড় পাতার নিচে থেকে গাছের রস শোষণ করে।

লক্ষণ

  • পাতায় ছোট ছোট হলুদ দাগ

  • পাতা শুকিয়ে যাওয়া

  • পাতার রং ফ্যাকাশে হওয়া

প্রতিকার

কীটনাশক গ্রুপ:
সালফার গ্রুপ

ব্যবহারযোগ্য কীটনাশক:

  • কুমুলাস ডিএফ

  • থিওভিট ৮০ ডব্লিউজি

  • ম্যাকসালফার

১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।


🍃 মরিচ গাছের প্রধান রোগ

পাতা পচা রোগ

পাতা পচা রোগ হলে মরিচ গাছের পাতা ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়।

লক্ষণ

  • পাতায় কালচে দাগ

  • পাতা শুকিয়ে ঝরে পড়ে

প্রতিকার

ছত্রাকনাশক গ্রুপ:
কার্বেন্ডাজিম গ্রুপ

ব্যবহারযোগ্য ছত্রাকনাশক:

  • নোইন

  • এইমকোজিম

  • ব্যাভিস্টিন

১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ১২–১৫ দিন পরপর স্প্রে করতে হবে।


গোড়া পচা রোগ

গোড়া পচা রোগ মাটির ছত্রাকের কারণে হয়ে থাকে।

লক্ষণ

  • গাছের গোড়া নরম হয়ে যায়

  • গাছ শুকিয়ে মারা যায়

প্রতিকার

ছত্রাকনাশক গ্রুপ:
কার্বেন্ডাজিম / ম্যানকোজেব গ্রুপ

ব্যবহারযোগ্য ছত্রাকনাশক:

  • নোইন

  • এইমকোজিম

  • ডাইথেন এম-৪৫

মাটিতে স্প্রে করে গোড়া ভিজিয়ে দিতে হবে।


এনথ্রাকনোজ রোগ

এ রোগ মরিচের ফল ও পাতায় আক্রমণ করে।

লক্ষণ

  • ফলে কালো বা বাদামী দাগ

  • ফল পচে যাওয়া

প্রতিকার

ছত্রাকনাশক গ্রুপ:
প্রোপিকোনাজল / কার্বেন্ডাজিম গ্রুপ

ব্যবহারযোগ্য ছত্রাকনাশক:

  • টিল্ট

  • নোইন

  • এইমকোজিম

১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।


হলদে মোজাইক রোগ

এটি একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা সাধারণত জাব পোকা বা সাদা মাছির মাধ্যমে ছড়ায়।

লক্ষণ

  • পাতায় হলুদ মোজাইক দাগ

  • পাতা কুঁকড়ে যাওয়া

  • গাছের বৃদ্ধি কমে যাওয়া

প্রতিকার

বাহক পোকা দমন করতে হবে।

কীটনাশক গ্রুপ:
ইমিডাক্লোরোপ্রিড গ্রুপ

ব্যবহারযোগ্য কীটনাশক:

  • এডমায়ার

  • টিডো

  • কনফিডর

১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।


⚠️ সতর্কতা

  • কীটনাশক ব্যবহারের আগে প্যাকেটের নির্দেশনা ভালোভাবে পড়তে হবে

  • স্প্রে করার সময় নিরাপত্তা পোশাক ব্যবহার করতে হবে

  • স্প্রে করার সময় ধূমপান বা খাবার গ্রহণ করা যাবে না

  • প্রয়োগের পর অন্তত ৭–১৫ দিন পরে ফসল সংগ্রহ করা উচিত

এই ফসলের অন্যান্য রোগসমূহ